

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে পবিত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন দীপু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য্য শিবু, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মলয় চক্রবর্তী রাজু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিত চক্রবর্তী এবং জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রাধাকান্ত সূত্রধর।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এ সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাঁরা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহযোগিতার বিকল্প নেই। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
সম্মেলনের শেষ পর্বে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ সম্মেলন উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
Leave a Reply