

ছাতকের সংবাদ ডেক্স :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া সাহিত্যিক পাড়ার দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা ও চলাচল-অযোগ্য সড়ক স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ছিল এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণ। বছরের পর বছর ধরে খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নিত্যদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই কাদা ও পানিতে রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ত, ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করত।
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, নারী ও বয়স্কদের জন্য এই সড়কটি যেন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি উঠলেও বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ না থাকায় হতাশ ছিলেন স্থানীয়রা।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে বিবেচনা করে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। সরকারি বরাদ্দ বা সংস্কার কাজের অপেক্ষায় না থেকে তিনি নিজ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট ও খোয়া ফেলে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন।
তার এই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে সড়কটির চলাচলযোগ্যতা অনেকাংশে ফিরে এসেছে। এখন সাধারণ মানুষ তুলনামূলক স্বস্তির সঙ্গে যাতায়াত করতে পারছেন। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের মধ্যে এটি যেন এক স্বস্তির নিঃশ্বাস।
স্থানীয়রা জানান, বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন। এমন সময়ে আলমগীর হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ তাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
একাধিক বাসিন্দা বলেন,
“মানুষের কষ্ট অনুভব করার মানসিকতা সবার থাকে না। আলমগীর হোসেন নিজের অর্থ ব্যয় করে যেভাবে রাস্তার কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে সমাজের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব।”
তারা আরও বলেন,
“এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদেরও অনুপ্রাণিত করবে। নিজের এলাকার উন্নয়নে সবাই যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে জাউয়া সাহিত্যিক পাড়ার সড়কটি টেকসই ও স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আলমগীর হোসেনের এই ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন মহলেও তার কর্মকাণ্ড ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আলমগীর হোসেন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা শুধু একটি রাস্তা সংস্কারের গল্প নয়; বরং এটি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”
Leave a Reply