

ছাতকের সংবাদ ডেক্স :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুড়িয়ে পাওয়া সেই নবজাতক ছেলে শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনে-দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় ছাতক সদর ইউনিয়নের আন্ধারীগাঁও গ্রাম সংলগ্ন সড়কের পাশে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আনুমানিক এক সপ্তাহ বয়সী একটি নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেন কাওছার আহমেদ নামে এক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক। শিশুটির হাতে তখনও চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত কেনোলা লাগানো ছিল।
নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে কাওছার গাড়ি থামিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অসুস্থ নবজাতককে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উদ্ধারকারী কাওছার নিজ জিম্মায় শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বও নেন।
তবে ভর্তির তিন দিন পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে নবজাতক, উদ্ধারকারী কাওছার এবং তার স্ত্রী— কাউকেই আর পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই শিশুটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের জন্ম নেয়।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হাসপাতাল থেকে নবজাতকটি চুরি হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সচেতন মহলের ধারণা, যারা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, তারাই কাউকে কিছু না জানিয়ে শিশুটিকে নিয়ে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে কাওছার আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, কাওছার তাকে ফোনে বলেছেন হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তার দাবি, হাসপাতালে থাকাকালে কয়েকজন ব্যক্তি নবজাতকটিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি অর্থের বিনিময়ে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ারও প্রস্তাব এসেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “যারা নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, তারা কাউকে না জানিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তাদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই শিশুটিকে নিয়ে এ রহস্যজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন, শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে এবং তাকে কে বা কারা নিয়ে গেছে— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
Leave a Reply