

ছাতকের সংবাদ ডেক্স :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আইন্দারগাঁও সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তাকে উদ্ধার করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক কাওছার আহমেদ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল প্রায় ৬টার দিকে ছাতক থেকে বাড়ি ফেরার পথে আইন্দারগাঁও সড়ক এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান কাওছার আহমেদ। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি গাড়ি থামিয়ে শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, আনুমানিক সাত দিন বয়সী এক নবজাতক ছেলে শিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
উদ্ধারকালে শিশুটির হাতে হাসপাতালের ব্যবহৃত কেনোলা লাগানো ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি সম্প্রতি কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে আনা হয়েছিল। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে সেখানে ফেলে রেখে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকারী কাওছার আহমেদ দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর (নোয়াগাঁও) গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে। শিশুটিকে উদ্ধার করার পর তিনি সময় নষ্ট না করে দ্রুত ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করান।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরেফিন জানান, উদ্ধার হওয়া নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করতে আরও ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তিনি বলেন, শিশুটি সুস্থ হওয়ার পর যদি কেউ তার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হন, তাহলে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বর্তমানে শিশুটি উদ্ধারকারী কাওছার আহমেদের জিম্মায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সার্বিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নবজাতক শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে এবং তাকে কে বা কারা পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে গেছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একদিকে নবজাতককে পরিত্যাগের নির্মমতা, অন্যদিকে একজন সাধারণ অটোরিকশা চালকের মানবিক উদ্যোগ—এই দুই বিপরীত চিত্রের মধ্য দিয়ে ছাতকের এ ঘটনাটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে নিরাপদ ও স্নেহময় আশ্রয় লাভ করবে।
Leave a Reply