আহমদ আল কবির চৌধুরী : স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। দেশ এগিয়েছে উন্নয়নের মহাসড়কে। কিন্তু সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বুকো নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আজও যেন সময় থমকে আছে বাদেশ্বড়ী, তারাপুর, সুড়িগাঁও-বাগারাইসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনে। 

বর্ষা নামলেই নদী ফুলে ওঠে, আর সেই সাথে বাড়ে মানুষের দুর্ভোগ। ঘরে ঘরে নৌকা বাঁধা থাকে—এটাই যেন নিয়তি। বছরের বাকি সময়টুকুতে ভরসা এক টুকরো নড়বড়ে সাঁকো, যেখানে প্রতিটি পা ফেলা মানে শঙ্কা, প্রতিটি যাত্রা যেন অনিশ্চয়তার সাথে লড়াই।

সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা যায় স্কুলগামী শিশুদের জীবনে। বই-খাতা বুকে জড়িয়ে, কখনো নৌকায়, কখনো ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে তারা পৌঁছাতে চায় শিক্ষার আলোয়। অনেক সময় ভিজে যায় বই, থমকে যায় স্বপ্ন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে পরিবারকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে—সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার শঙ্কা যেন নিত্যসঙ্গী।

কৃষকের ঘাম ঝরা ফসল বাজারে নিতে গেলেও পোহাতে হয় ভোগান্তি। একটি সেতুর অভাবে এই জনপদের অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—সব কিছুই যেন পিছিয়ে পড়েছে বছরের পর বছর।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমাদের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। বুকো নদীর ওপর একটি ছোট সেতু—এটাই আমাদের স্বপ্ন, এটাই আমাদের বাঁচার পথ।”

মাননীয় সংসদ সদস্যের সদয় দৃষ্টি কামনা করে তারা জানান, একটি সেতু নির্মাণ হলে বদলে যাবে হাজারো মানুষের জীবনচিত্র। কমবে দুর্ভোগ, জাগবে নতুন সম্ভাবনা।

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে পড়া এই জনপদের মানুষ আজও আশায় বুক বাঁধে—কবে শেষ হবে এই অপেক্ষা, কবে মিলবে কাঙ্ক্ষিত সেই সেতু?