
সাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৩৩ জন সাংবাদিক আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন লাভ করেছেন।
সোমবার (৭ জুলাই) সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাফিয়া সুলতানা এই জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। সাংবাদিকরা আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের দখলদার কমিটির নেতা মো. আবু নাসের সাঈদ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৭ জন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা এবং হুমকিসহ ফৌজদারি আইনের ১৪৩/৩২৫/৩০৭/৪২৭/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
জামিন শুনানিকালে সাংবাদিকদের পক্ষে সওয়াল করেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম শাহ আলম, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামানসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সিনিয়র আইনজীবী।
জামিনপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা বলেন, "আমরা ন্যায়বিচার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে যেভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে, তা শুধু সাংবাদিকতার পেশাকেই নয়, গণতান্ত্রিক অধিকারকেও চ্যালেঞ্জ করছে।"
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, মূলত সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলার ঘটনাকে আড়াল করতেই পাল্টা মামলা করেছেন আবু সাঈদ। তারা বলেন, “যারা হামলার শিকার, আজ তারাই আসামি—এটা বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবিচার ও অবজ্ঞা। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।”
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে দখলদার কমিটির নেতৃত্বে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কাশেমসহ প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পর উভয় পক্ষ থেকে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়—একটি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ও অপরটি দখলদার কমিটির পক্ষ থেকে।
সাংবাদিক সমাজ বলছে, এটি শুধু একটি প্রেসক্লাব নিয়েই সংঘাত নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।